দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাজীপুরের সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকায় মেয়ের পারিবারিক সমস্যা সমাধানের কথা বলে ঝাড়ফুঁকের নামে এক নারীকে অচেতন করে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক মসজিদের ইমাম ও কবিরাজের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী জয়দেবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত আব্দুল হাদী (৫০) ভবানীপুর এলাকার আব্দুল হেকিমের ছেলে। তিনি নিজেকে স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম, হেকিম ও কবিরাজ হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন।
থানায় দেওয়া অভিযোগ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার বাসিন্দা ওই নারী বর্তমানে গাজীপুরের ভবানীপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। প্রায় সাড়ে তিন মাস আগে মেয়ের দাম্পত্য জীবনের সমস্যা সমাধানের আশায় তিনি আব্দুল হাদীর শরণাপন্ন হন। অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন কাজের কথা বলে অভিযুক্ত তার কাছ থেকে মোট ৮১ হাজার টাকা নেন।
গত ২৮ মার্চ সকালে পাওনা টাকা ও কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে অভিযুক্তের বাড়িতে গেলে তাকে একটি টিনশেড ঘরে নিয়ে ঝাড়ফুঁক করা হয়। একপর্যায়ে ওষুধের মতো কিছু খাওয়ানোর পর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, জ্ঞান ফেরার পর তিনি বুঝতে পারেন যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। প্রতিবাদ করলে তাকে ও তার ছেলেকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় এবং মেয়ের সংসার ভেঙে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। এ কারণে তিনি প্রথমে বিষয়টি গোপন রাখলেও পরে পরিবারের সদস্যদের কাছে সব খুলে বলেন। এরপর পরিবারের পরামর্শে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, অভিযোগ দায়েরের তিন দিন পার হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়নি। পাশাপাশি স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য চাপ ও হুমকি দিচ্ছেন বলেও দাবি করেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আব্দুল হাদী দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় পরিচয় ও কবিরাজির আড়ালে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। এর আগে বিভিন্ন বিতর্কের কারণে তাকে একটি মসজিদের ইমামের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে তিনি পাশের গ্রামের একটি মসজিদে ইমামতি করছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল হাদীর পরিবারের দাবি, অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই এ অভিযোগ আনা হয়েছে।
জয়দেবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুজন রঞ্জন তালুকদার বলেন, ‘অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে অপরাধ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ধর্মীয় ও সামাজিক আবহকে কেন্দ্র করে ওঠা এ অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।
এমএস/